নয়াদিল্লি: চিনির দাম বাড়ার জন্য ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে জানাল কেন্দ্র। কম উৎপাদন, উৎসবের চাহিদা, আবহাওয়া ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটই মূল কারণ।
দেশজুড়ে চিনির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করা হচ্ছিল। কিন্তু কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, এই দাবি সঠিক নয়। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ইথানল তৈরির জন্য সরিয়ে নেওয়া চিনির পরিমাণ বরং কমেছে, ২০২২-২৩ সালে প্রায় বারো শতাংশ থেকে ২০২৫-২৬ সালে নেমে এসেছে নয় শতাংশে। বর্তমানে উৎপাদিত ইথানলের তিন-চতুর্থাংশই শস্য থেকে তৈরি হয়, বিশেষত ভুট্টা থেকে।
কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিনির দাম বাড়ার আসল কারণ অন্য। প্রত্যাশার তুলনায় কম দেশীয় উৎপাদন, উৎসবের মরশুমে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার কারণে আখের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং শিল্পের কিছু অংশের মজুতদারি—এই সব মিলেই দাম বেড়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রতি কেজি চিনি ছিল ৪৮ টাকা, আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ টাকা।
চলতি মরশুমে দেশে চিনি উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন, অথচ প্রাথমিক অনুমান ছিল ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত বৃষ্টি, রোগের প্রকোপ এবং জমিতে জল জমে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার আশ্বস্ত করেছে, অক্টোবর থেকে নতুন আখ ঝাড়াই শুরু হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও একই ছবি। মাত্র দু’মাসে চিনির দাম বেড়েছে ষোলো শতাংশের বেশি। ফলে ভারতের বাজারও তার প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। তবে কেন্দ্র দাবি করেছে, অতিরিক্ত চিনি ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার হওয়ায় চিনিকলগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং আখচাষিদের পাওনা দ্রুত মেটানো সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যেই চলতি মরশুমে তাঁদের প্রায় সাতানব্বই শতাংশ পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

