জলপাইগুড়ি: পরিবারের কেউ যদি মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি আয় করেন, তাহলেই র্যাশন কার্ড বন্ধ হতে পারে! রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে নতুন ‘ফরমান’ দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়।
শহর ও গ্রামে কোন কোন পরিবার রেশন সুবিধা পাবেন না, Auto-exclusion Criteria তৈরি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিকের বয়ান অনুযায়ী, ন্যাশেনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট মেনে এই ক্রাইটেরিয়া করা হয়েছে। সেই অনুযায়ীই রাজ্য খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের সাইটে সেই মানদণ্ড দেওয়া আছে। তাঁর কথায়, যদি কেউ ফরচুনার নিয়ে ঘোরেন, তাহলে কি তাঁর র্যাশন পাওয়া উচিৎ? তবে ১৫ হাজার টাকার বেশি আয় করলেই কেন বন্ধ হবে কার্ড, সেই নিয়ে তিনি NFS আইনের কথাই বলেছেন।
ইতিমধ্যেই, জেলায় জেলায় র্যাশন কার্ডে ঝাড়াই বাছাই চলছে। অযোগ্যদের কার্ড ব্লক করা হচ্ছে, বলেও খবর। অন্যদিকে, ১ অগাস্ট থেকে জনগণনার কাজও শুরু হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি চলবে সার্ভে। Auto-exclusion Criteria হিসেবে কী কী শর্ত বেঁধে দিয়েছে সরকার? দেখে নিন তালিকায়।
গ্রামীণ এলাকায় রেশন কার্ড পাবেন না যাঁরা:
- পরিবারের কেউ মাসে ১৫,০০০ টাকার বেশি আয় করেন।
- তিন বা তার বেশি পাকা ঘর রয়েছে।
- ফ্রিজ বা ল্যান্ডলাইন ফোন রয়েছে।
- ২.৫ একর বা তার বেশি সেচযোগ্য জমি রয়েছে এবং অন্তত একটি সেচযন্ত্র আছে।
- ৫ একর বা তার বেশি জমি রয়েছে যেখানে বছরে দু’বার ফসল হয়।
- মোটরচালিত দুই/তিন/চার চাকার যান বা নৌকা রয়েছে।
- ট্রাক্টর, হারভেস্টার ইত্যাদি যান্ত্রিক কৃষি সরঞ্জাম রয়েছে।
- ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি সীমার কৃষক ক্রেডিট কার্ড রয়েছে।
- পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিজীবী।
- পরিবারের কেউ আয়কর বা পেশাগত কর দেন।
শহরাঞ্চলে রেশন কার্ড পাবেন না যাঁরা:
- তিন বা তার বেশি কংক্রিটের ঘর (পাকা দেওয়াল ও ছাদ) বিশিষ্ট বাড়িতে থাকেন।
- চার চাকার গাড়ি, এয়ার কন্ডিশনার, কম্পিউটার বা ইন্টারনেট-সংযুক্ত ল্যাপটপ রয়েছে।
- একাধিক ভোক্তা সামগ্রী যেমন ফ্রিজ, ল্যান্ডলাইন ফোন, ওয়াশিং মেশিন, মোটরবাইক রয়েছে।
- পরিবারের কেউ আয়কর বা পেশাগত কর দেন।
- পরিবারের কেউ রাজ্য/কেন্দ্রীয় সরকার, সরকারি সংস্থা বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
সরকারি ওয়েবসাইটে দেখুন, লিঙ্ক

