সম্পাদকীয়: অধুনা বঙ্গ রাজনীতিতে বহুল আলোচিত ‘ভালো তৃণমূল’, বিশেষ করে তৃণমূলত্যাগী NCPI সাংসদেরা, সায়নী-রচনারা, যারা দিন কয়েক আগেও মোদী এবং বিজেপির বিরুদ্ধে নতুন নতুন শব্দ প্রয়োগ করতেন, আজ তাঁরা তাঁর সঙ্গে হাসিমুখে প্রাতরাশ বৈঠকে বসে কেন্দ্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা শুনছেন। বলাই বাহুল্য, ‘ভালো তৃণমূল’-এর জন্য মোদী যেন ‘ভরসা ইন’-এর বার্তা দিলেন।
শুক্রবার মোদীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক একজন নিজেকে ‘ভাগ্যবান’ মনে করছেন বলে দাবি করলেন। জীবনের ‘সেরা মুহূর্ত’ বলতেও সংকোচ করেননি। বৈঠকে মোদী সাংসদদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। এসবের পাশাপাশি চল্লিশোর্ধ্ব সাংসদদের বছরে দু’বার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো ও যোগাসন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য মতে, এদিন প্রথমে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ের বাসভবনে যান এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তৃণমূল ত্যাগী সাংসদরা। সেখান থেকে একটি বাসে চেপে তাঁরা পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে। সেখানে প্রাতরাশ বৈঠকে তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কেন্দ্রের নানা সমস্যার কথা শোনেন মোদী। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব ভারতের উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেককে সংসদীয় এলাকায় গিয়ে উন্নয়নের কাজ করতে বলেছেন।
হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বলেছেন, “আপনারা ভাল করে কাজ করুন। আমাদের লক্ষ্যই হল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, দেশের জন্য কাজ করা।” মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার গঙ্গাসাগর মেলায় আসার আমন্ত্রণ জানান মোদীকে। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দেন, “নিশ্চয়ই চেষ্টা করব।”
এদিকে, দু’দিন গরিমসি করে অবশেষে এই বৈঠকে তিনজন মুসলিম সাংসদও উপস্থিত হন। তাঁরাও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভরসা রেখেছেন বলে খবরে দাবি। বলাই বাহুল্য, ভালো তৃণমূলের জন্য ‘ভরসা ইন, ভয় আউট’ করে দিলেন মোদী।

