বাঁশের সাঁকো নিয়ে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ, মহিলার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজগঞ্জ ব্লকের বিন্নাগুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব হরিচরণ ভিটা গ্রামের হারিয়া নদীর উপর অস্থায়ীভাবে নির্মিত বাঁশের সাঁকোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি সমর্থিত একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ওই সাঁকো নিয়ে স্থানীয় মহিলা কৌশল্যা বিশ্বাসের একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে ওই মহিলা বলেন, সাতখানা গাড়ি নিয়ে এসে স্থানীয় তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস এই সেতুর উদ্বোধন করেছেন। তিনি তার মন্তব্যে প্রশ্ন ছোড়েন, চার-পাঁচশো লোক নিয়ে এসে এবং একাধিক গাড়ি বয়ে নিয়ে এসে সামান্য একটি বাঁশের ব্রিজ উদ্বোধন করা ওই তৃণমূল নেতার উচিত হয়নি। ওই মহিলা আরও বলেন, গ্রামবাসীরা মনে করেছিলেন ধুমধাম করে হয়তো পাকা সেতুর কাজের শিলান্যাস করতে এসেছেন তৃণমূল নেতা। তবে এর শেষ দেখে গ্রামবাসীরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এই মন্তব্যে সরাসরি কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওই মহিলা। ভিডিও ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে রাজনৈতিক মহলে। এমনকি বিধায়ক খগেশ্বর রায়ও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তবে এই নিয়ে পাল্টা ক্ষোভ দেখা যায় কৃষ্ণদাস সমর্থিত তৃণমূলকর্মীদের মধ্যে। রবিবার পূর্ব হরিচরণ ভিটা গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করে ওই মহিলা এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেয় তৃণমূলকর্মী ও সমর্থকেরা। তাঁদের একজন বলেন, ওই মহিলা ইচ্ছে করেই তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের বদনাম করার জন্য এ কাজ করেছেন। এর পেছনে বিজেপির কয়েকজন নেতার হাত রয়েছে। কিছু বিজেপি নেতা এই কাজে উস্কানি দিয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা ওই মহিলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তৃণমূল সমর্থকদের দাবি, কৃষ্ণদাস ওই সেতুর উদ্বোধন করেছেন, এমন কোনও প্রমান নেই। স্থানীয় এক মহিলা জানান, অস্থায়ীভাবে চা বাগান শ্রমিকদের পারাপারের জন্য কিছু বাঁশ দিয়ে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। দলের তরফে এই কাজ করা হয়নি। এক্ষেত্রে ইচ্ছে করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দলকে বদনাম করার চক্রান্ত চালানো হয়েছে। তৃণমূল নেতা পূর্ণচন্দ্র রায় বলেন, ওই মহিলার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে। তাঁর দাবি, ‘মোদি যেমন মিথ্যে কথা বলেন, তার দলের নেতাকর্মীরাও মিথ্যে কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।’ এ বিষয়ে রাজগঞ্জ উত্তর মন্ডল বিজেপির সহসভাপতি তথা শিকারপুর অঞ্চলের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য তপন রায় বলেন, স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমের তরফে খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয়। তাদের তরফে খবরটি প্রচার হতেই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে বিজেপির কোনও চক্রান্ত থাকতেই পারে না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওই এলাকায় গিয়ে মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে; ওই মহিলা একজন স্থানীয় হিসেবে যা যা বলেছেন তাই সংবাদমাধ্যমটিতে দেখানো হয়েছে। তপনবাবু আরও জানান, সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারিত হতেই ভিডিওটি তাঁরই নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে প্রথমে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। ‘এটা কোনও অপপ্রচার নয়’, সংবাদমাধ্যমে যা দেখানো হয়েছে সেটাকে তিনি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন, এমনই দাবি তাঁর।

https://www.facebook.com/RNFNewsOfficial/videos/552019652183035/