MLA-রা ইস্তফা দেবেন, আর ভোট হবে জনতার টাকায়? জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

দলবদলের আগে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে উপনির্বাচন বাধ্যতামূলক করার প্রবণতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়ে দায়ের হওয়া এক মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন-কে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকে-র ছয় বিধায়কের পদত্যাগ করে শাসকদল টিভিকে-তে যোগ দেওয়ার ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কে সুথান। মাদ্রাজ হাই কোর্ট আবেদন খারিজ করে দিলেও সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান তিনি। সোমবার সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশন এবং দলবদলকারী ছয় প্রাক্তন বিধায়কের কাছে জবাব চেয়েছে।

আবেদনে কে সুথান জানিয়েছেন, “বিধানসভার আসনটি কোনও ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। সেটি জনগণের, যাঁরা তাঁকে নির্বাচিত করে সেখানে পাঠিয়েছেন। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ভোটই নাগরিকের একমাত্র কণ্ঠস্বর এবং তা পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদের জন্য দেওয়া হয়। যখন কোনও বিধায়ক জরুরি কোনও কারণ ছাড়াই কেবল দলবদলের জন্য কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই আসন ছেড়ে দেন, তখন তিনি শুধু আসন ছাড়েন না, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি ও জনগণের বিশ্বাসও ভেঙে দেন।” বিধায়কের ইচ্ছেমতো জনগণের বিশ্বাস ভেঙে ফেলার মাশুল সাধারণ মানুষকেই কেন গুনতে হবে? সংবিধান কি আদৌ তার অনুমতি দেয়? শীর্ষ আদালতের কাছে সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে আবেদনে।

আবেদনকারী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মে মাসে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই আস্থাভোটে দলের হুইপ অমান্য করে ভোট দেন ওই এআইএডিএমকে বিধায়কেরা। সংবিধানের দশম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) অনুযায়ী তাঁদের পদ খারিজের আবেদন স্পিকারের কাছে বিচারাধীন থাকাকালীনই তাঁরা বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই দিনই তাঁদের ইস্তফা গৃহীত হয় এবং তাঁরা শাসকদলে যোগ দেন। এমনকি, ধরপুরম এবং মদুরান্তকম কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দেওয়া বিধায়কদেরই ফের ওই শূন্য আসনগুলিতে শাসকদলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

About The Author