বসিরহাট: ইরানের শাসক আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি বাংলাতেও প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশকে। সেই নিয়েই খোলাখুলি প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রহ্লাদ মাইতি নামের ইউটিউবার।
ভিডিওতে, খামেনিকে ইরানের আতঙ্কের জনক, নারীদের ওপর অত্যাচারকারী ইত্যাদি একাধিক নেতিবাচক বিষয়ের মূলে বলে দাবি করা হয়। তবে খামেনিকে বাংলায় অশ্লীল ভাষায় সম্ভাষণ করতেও দেখা যায় ভিডিওতে।
প্রহ্লাদের স্পষ্ট কথা, ‘আরজি করের নির্যাতিতার হয়ে তাঁরা তো পথে নামেননি, তামান্নার হয়ে তো পথে নামেননি, আর ৪-৫ হাজার কিমি কোথায় একজন খামেনি মরেছেন, তাঁকে ভারত সহ বাংলার কিছু লোক রাস্তায় নেমেছেন।’ খামেনির হয়ে প্রতিবাদীদের কুকথায় দাগেন ইউটিউবার।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই খামেনির অনুরাগীরা ইউটিউবারের বিরুদ্ধে রাতেই বসিরহাট থানা ঘেরাও করেন। ইউটিউবারের নামে অভিযোগও দায়ের হয়। গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তেজিত জনতা থানার সামনে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত ইউটিউবার পল্লব মাইতি ওরফে ‘বিষাক্ত ছেলে’-র শাস্তির দাবি জানান। পড়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।
বসিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল। অন্যদিকে অভিযুক্তের সমর্থকরা দাবি করেছেন, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বুধবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে। এদিকে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয়তাবাদী বলে দাবি করে স্থানীয়দের হিন্দু সমাজের অনেকেই পাল্টা প্রহ্লাদের সমর্থনে পথে নামার উদ্যোগ শুরু করেছেন।

