বস্তির বাচ্চাদের আলোর দিশা দেখিয়ে রেকর্ডস বুকে জায়গা পেল রাজগঞ্জের লিপি

বস্তির বাচ্চাদের আলোর দিশা দেখিয়ে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে বিশেষ জায়গা পেল রাজগঞ্জের লিপি রায়। রাজগঞ্জ ব্লকের পানিকাউরি অঞ্চলের চান্দরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নীলকান্ত রায়ের বড় মেয়ে লিপি রায় শিক্ষকতার কাজ করেন। বস্তির অসহায় বাচ্চাগুলির কথা ভেবে ২০১৮ সালে শিক্ষালয় নামে একটি স্কুল চালু করেন। বর্তমানে তিন শতাধিক ছেলে মেয়ে সেখানে পড়াশোনা করছে।

রাজগঞ্জ মহেন্দ্রনাথ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাস করে লিপি। ২০১৪ সালে রাজগঞ্জ কলেজ থেকে স্নাতক। এরপর ২০১৭ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয় নিয়ে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করে লিপি। ২০১৮ সালে শিলিগুড়ি হিন্দি হাইস্কুলে শিক্ষকতার কাজ করেন। সেখানেই কিছু অসহায় বস্তির ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে টিউশন পড়াতেন। সেই সূত্রে তাদের বস্তিতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার হদিস পান লিপি। শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে বাচ্চাদের অনেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছিল। বস্তির বাচ্চাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেয় লিপি। স্থানীয় কাউন্সিলরের সহযোগিতায় শিলিগুড়ি সন্তোষিনগরে শিক্ষালয় নামে স্কুল চালু করেন।

পরবর্তীতে বাচ্চাদের জন্য সপ্তাহ শেষে বিনামূল্যে খাবার এবং প্রতিমাসে নিখরচে বস্ত্র এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থাও করেন। তাঁর কাজের সূত্রে পুলিশ এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সেই সুত্রেই তাঁর এই সম্মান প্রাপ্তি। এমনটাই জানালেন লিপি। তাঁর কথায়, বস্তির বাচ্চাদের শিক্ষার অভাবে নানা অপরাধ মূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ছোট্ট ছোট্ট মেয়েরাও দেহ ব্যবসার কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়। সতর্কতার অভাবে এইসব অনাকাঙ্খিত সমস্যরা মুখোমুখি হতে হয় তাদের। পুলিশ এবং স্থানীয় সমাজ কর্মীদের নিয়ে এই বিষয়ে তাদের পরিবারকে জাগ্রুক করা হচ্ছে।

লিপির বাবা নীলকান্ত রায় ডাক বিভাগের চাকুরি করেন। আর ৫ বছর কাজের পর অবসর নেবেন। মা পবিতা রায় একজন গৃহবধূ। লিপির বাড়িতে আরও দুই ভাই, প্রতাপ এবং ধিরাজ রয়েছে। রাজ গঞ্জ কলেজে স্নাতক শেষ করে ২০১৫ সালে বিএড করেন লিপি। শুরু থেকেই অভাবি পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ লক্ষ্য করেছে লিপির পরিবার। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে নিয়ম তান্ত্রিক কাজ বন্ধ থাকলেও মন পড়ে রয়েছে বস্তির বাচ্চাগুলির দিকেই। এর পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ মানুষ বর্তমানে ডিজিটাল শিক্ষা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন তাদের জন্যও কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে লিপি।