নিউ মার্কেটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু, কাজে এসে ঝাড়খণ্ডের যুবকের মর্মান্তিক পরিণতি

কলকাতা: চার বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর সংসার চালাতে কাকার সঙ্গে কলকাতায় চলে আসে। হোটেলেই কাজ করত ১৯ বছরের ছেলেটা। মঙ্গলবার ঘটল অমঙ্গল।

জতুগৃহ হোটেল! তারাপীঠের পর এবার খাস কলকাতার একটি হোটেলে ঘুমের মধ্যেই ভয়াবহ আগুনে শিশু-সহ ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা।

মঙ্গলবার ভোর রাতে হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে। আতঙ্কে আবাসিকরা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও সরু প্রবেশপথের কারণে সমস্যা তৈরি হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, বাইরে থেকে আগুনের শিখা তেমন দেখা যায়নি, বরং হোটেলের ভিতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে আতঙ্ক ছড়ায়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা যায়, মৃতদের শরীরে আগুনে ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন নেই, অতিরিক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢোকার কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান।
কলকাতার এই হোটেলেই ছিলেন ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা বছরের ১৯-এর যুবক সন্দীপ পাসওয়ান।পেটের টানে কাজের খোঁজে কলকাতায় এসেছিলেন ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ান। বয়স মাত্র ১৯। কিন্তু বছর পেরনোর আগেই তাঁর দেহ ফিরল বাড়িতে। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের হোটেল শিখা ইন-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন তিনি।

পরিবারের দাবি, ফ্রিজের কম্প্রেসার ফেটে আগুন লাগে। সন্দীপ ফ্রিজের পাশে ঘুমোচ্ছিলেন। ধোঁয়ার দাপটে বেরোতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

সন্দীপের বাবা চার বছর আগে মারা গিয়েছিলেন। সংসারের দায় সামলাতে কাজের খোঁজে ছিলেন তিনি। কাকা সীতারাম পাসওয়ান তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসেন এবং হোটেলে ঝাড়ু দেওয়া ও সাফাইয়ের কাজ জোগাড় করেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টায় হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে।

মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া, সংকীর্ণ সিঁড়ি দিয়ে বেরোতে না পেরে আটকে পড়েন সন্দীপরাত পৌনে ২ টো নাগাদ আগুন লাগে বিল্ডিংয়ের তিনতলায়। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বিল্ডিং।বেরনোর চেষ্টা করলেও সংকীর্ণ সিঁড়ি, ধোঁয়ার দাপটের কারণে আবাসিকদের মতোই সন্দীপও বেরতে পারেননি।

বুধবার সকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এসে ভাইপোর দেহ সনাক্ত করেন কাকা সীতারাম। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “ছেলেটার কাজের দরকার ছিল। তাই নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এমন খবর পাব ভাবিনি।”

About The Author