জলপাইগুড়ি: বিয়েবাড়িতে আসা এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় কড়া সাজা শোনাল জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালত । ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ক্যাটারিং কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক ।
জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালত এক নাবালিকা গণধর্ষণ মামলায় কঠোর রায় দিল। অভিযুক্ত দুই ক্যাটারিং কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্যাতিতার পুনর্বাসনের জন্য জেলা লিগাল সার্ভিস অথরিটিকে চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল ময়নাগুড়ি থানার এলাকায় মামার বাড়ির বিয়েবাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছিল ওই কিশোরী। জলভরার অনুষ্ঠানে পরিবারের সঙ্গে যাওয়ার পর আচমকা নিখোঁজ হয়ে যায় সে। গভীর রাতে অচৈতন্য অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন মাকে জানায়, তিনজন মিলে তাকে জোর করে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে গণধর্ষণ করেছে।
তদন্তে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে একজন নাবালক ছিল, যার বিচার চলছে জুভেনাইল কোর্টে। বাকি দুইজন ক্যাটারিং কর্মীকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে। শুনানিতে নাবালিকার গোপন জবানবন্দি, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও দশজন সাক্ষীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। প্রতিবেশীরাও বলছেন, নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, তাই এই রায় নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

