কলকাতা: শসা, চালকুমড়ো ও গোটা আখ বলি দিয়ে মহানবমীর পুজোর আচার পালন করা হল বেলুড় মঠে। পশুবলির পরিবর্তে প্রতীকী বলির রীতি রয়েছে এখানে। সেই প্রথা মেনেই এবারের আয়োজন। দুর্গাপুজোর বিভিন্ন আচারের মধ্যে বলিদান থাকলেও বেলুড় মঠে তার জন্য কোনও পশু হত্যা করা হয় না।
বেলুড় মঠের এই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সারদা দেবীর নির্দেশ। মঠের প্রকাশিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯০১ সালে প্রথম দুর্গাপুজোর সময় স্বামী বিবেকানন্দ বলিদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সারদা দেবী পশুবলিতে অনুমতি দেননি। তাঁর নির্দেশ মেনেই মঠের দুর্গাপুজোয় পশুবলি বন্ধ রাখা হয়। ফলে এবারের প্রতীকী বলি কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নয়, দীর্ঘদিনের রীতির অনুসরণ।
মহানবমীতে বলিদান দুর্গার আরাধনার একটি প্রচলিত আচার। তবে সব পুজোয় তা একইভাবে পালিত হয় না। অঞ্চল, পারিবারিক প্রথা ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী উপকরণ এবং পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকে। কোথাও পশুবলির চল রয়েছে, আবার কোথাও আনাজ বা অন্য উপকরণ দিয়ে প্রতীকী বলি দেওয়া হয়। বেলুড় মঠে চালকুমড়ো ও আখ ব্যবহারের উল্লেখ মঠের নিজস্ব বিবরণেও রয়েছে।
এবার সেই বলির উপকরণের মধ্যে ছিল শসাও। শসা, চালকুমড়ো এবং গোটা আখ দিয়েই নির্দিষ্ট আচার সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে বলি বলতে এই উপকরণগুলি দেবীর উদ্দেশে নিবেদনের ধর্মীয় প্রথাকেই বোঝানো হচ্ছে। পশুবলি ছাড়াও যে বলিদানের আচার পালিত হয়, মঠের এই আয়োজন তার একটি উদাহরণ।
নবমীর পুজোয় বলির পাশাপাশি হোমেরও বিধান রয়েছে। বেলুড় মঠের পুজোপদ্ধতির বিবরণ অনুযায়ী, এদিন দেবীর মহাস্নান ও ষোড়শোপচারে পুজো করা হয়। এরপর বলিদান ও হোম অনুষ্ঠিত হয়। মঠের ব্যাখ্যায়, এই হোমে বৈদিক ও তান্ত্রিক—দুই ধারার রীতির সমন্বয় রয়েছে।
স্বামী বিবেকানন্দের উদ্যোগে শুরু হওয়া বেলুড় মঠের দুর্গাপুজোর বয়স এক শতাব্দীরও বেশি। পুজো শুরুর আগে সারদা দেবীর সম্মতি নেওয়া হয়েছিল। তাঁর নামেই পুজোর সংকল্প করার প্রথাও চলে আসছে। সেই ইতিহাসের অংশ হিসেবেই এখানে পশুবলির পরিবর্তে প্রতীকী বলির নিয়ম বজায় রয়েছে। এবারের মহানবমীতেও সেই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হল। শসা, চালকুমড়ো ও আখের বলি তাই মঠের প্রচলিত পুজোপদ্ধতিরই অংশ।

