সৈকতে রিল তৈরিতে মগ্ন দম্পতি, ঢেউয়ের মুখ থেকে শিশুকে উদ্ধার করল অন্য কেউ

বাবা মা ব্যস্ত রিল বানাতে, এদিকে জলের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে শিশু। এমনই একটি ভিডিও নেট মাধ্যমে ভাইরাল। রিল দেখে ক্ষুব্ধ নেট পাড়া। দম্পতির কান্ড জ্ঞান দেখে হতবাক।

সমুদ্রের ঢেউয়ের মুখে পড়ে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলেন এক ব্যক্তি। কাছেই এক দম্পতি তখন নিজেদের ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে। ওই দু’জনকে শিশুটির বাবা-মা হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের ভূমিকার সমালোচনা করছেন অনেকে। তবে ঘটনাস্থল, সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রায় ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে সমুদ্রের ধারে এক দম্পতিকে ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে দেখা যায়। তাঁদের কাছেই জলের দিকে ছিল ছোট্ট শিশুটি। ঢেউ এগিয়ে আসার পর শিশুটির বিপদ নজরে পড়ে পাশে থাকা এক ব্যক্তির। তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনেন।

ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া বিবরণে দাবি করা হয়েছে, রিল তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় শিশুটির দিকে নজর দেননি ওই দম্পতি। উদ্ধার হওয়ার পরও তাঁরা ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে থাকেন বলেও কিছু পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই শেষ দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সংক্ষিপ্ত ভিডিওর বাইরের ঘটনাক্রম সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিও ঘিরে প্রতিক্রিয়ায় একাধিক ব্যবহারকারী শিশুর নিরাপত্তায় নজর না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ছবি বা ভিডিও তোলার সময়ও সঙ্গে থাকা শিশুর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। উদ্ধারকারী ব্যক্তির দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছেন অনেকে। তবে লাইক বা ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই দম্পতি এমন আচরণ করেছেন, এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনুমান।

ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত বিবরণে শিশুটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। একইভাবে পরিবারের বক্তব্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনও নিশ্চিত বিবরণও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে জলাশয়ের কাছে শিশুদের তত্ত্বাবধান। তবে ঘটনাটি ভারতের কোনও সৈকতে ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তাই নির্দিষ্ট জায়গার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা বা পরিচয় না জেনে কাউকে অভিযুক্ত করার ভিত্তি নেই। আপাতত প্রকাশিত খবর ও ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বিবরণ থেকেই উদ্ধার এবং দম্পতির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।

About The Author