চোরবাগানে মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, পূর্বতন সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনহারা পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষতিপূরণ ও তদন্তের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানানোর পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নেওয়া এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব।

মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহিতে নিহত কল্পনা বেজ ও তাঁর ১৪ বছরের ছেলে সন্দীপের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আগের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এমন ঘটনায় মৃতদের বাড়িতে গিয়েছেন কি না এবং ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন। তবে তাঁর এই তুলনামূলক দাবির পক্ষে বিস্তারিত তথ্য দেননি।

তদন্ত প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গে কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের তদন্ত প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হচ্ছে। অনুমোদন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোথায় ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও এই প্রসঙ্গে উঠে আসে।

বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে অতীতের একাধিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে বিচার চাইতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। বর্তমান সরকার নিজের উদ্যোগেই তদন্তের পদক্ষেপ করছে বলে দাবি করেন তিনি। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর উৎসবে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।

নিজেদের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও আনন্দ অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। তবে অতীত ও বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই উঠে এসেছে।

About The Author