‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি করছে সিজেপি। গ্রামীণ সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো দেখতে এই কর্মসূচি। দীপকে তাঁর নিজের গ্রামে স্কুলে অভিযানে গেছিলেন। বিনা অনুমতিতে প্রবেশ এবং কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় FIR হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-র বিরুদ্ধে এফআইআর হল মহারাষ্ট্রের লাতুরের থানায়। অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই সরকারি স্কুলে প্রবেশ করেছেন। দীপকে ছাড়াও এফআইআরে নাম রয়েছে সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্দে-সহ দলীয় কর্মীদের।
লাতুর জেলার আউসা শহরের জিলা পরিষদ উর্দু স্কুলের শিক্ষক সৈয়দ শামশাদবানো খৈরাতালির অভিযোগের ভিত্তিতে দীপকে-দের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর হয়েছে। অভিযোগ, ওই স্কুলে প্রবেশ করে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন দীপকে-রা। শিক্ষকদের হুমকি দিয়েছেন। আরও অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া স্কুলে প্রবেশ করেন তাঁরা। পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে স্কুলের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মহারাষ্ট্রের লাতুরের স্কুলে সেই কর্মসূচি পালনের ভিডিয়োও পোস্ট করেছেন দীপকে। তাতে তিনি দাবি করেছেন, ওই স্কুলে তাঁরা যাবেন বলে অন্য স্কুল থেকে ‘ভাড়া করে’ পড়ুয়াদের এনে বসানো হয়েছিল। এফআইআরে অভিযোগ, দীপকে এই মন্তব্য করে আসলে জিলা পরিষদ উর্দু স্কুলকে অপমান করেছেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৩২ (সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা) ৩২৯ (৩) (অনধিকার প্রবেশ), ৩৫১(২) (ভয় দেখানো), ৩৫৬(২) (ফৌজদারি অপমান) ধারায় মামলা হয়েছে।
গত ১৫ অগস্ট, স্বাধীনতা দিবস থেকে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি শুরু করেছে সিজেপি। গ্রামীণ সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের এই কর্মসূচি। সে দিন দীপকে তাঁর নিজের গ্রাম মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সন্তুক পিম্পরিতে এই কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। এর পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি স্কুলগুলিতে যাওয়া শুরু করেছেন ককরোচ নেতা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। গত বৃহস্পতিবার ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে মহারাষ্ট্রের লাতুরের ওই স্কুলে গিয়েছিলেন দীপকে। তাঁর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। স্কুলচত্বর থেকে মদের বোতল পাওয়া গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই সঙ্গে ককরোচ প্রতিষ্ঠাতার দাবি, তাঁদের যাওয়ার খবর পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ‘ভাড়া করা’ নকল পড়়ুয়াদের এনে ক্লাসরুমে বসিয়েছিলেন! বিদ্যালয়ের শৌচাগার এবং মিড-ডে মিল পরিকাঠামোর বেহাল দশা বলে অভিযোগ তুলে মহারাষ্ট্রের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের ইস্তফা দাবি করেন দীপকে। যদিও লাতুরের ওই স্কুলের কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছেন, ওই ভবনে দু’টি আলাদা স্কুল চলে— একটি মরাঠী মাধ্যম এবং অন্যটি উর্দু মাধ্যম। বাইরে থেকে পড়ুয়া এনে বসানোর অভিযোগ ঠিক নয়। এ বার দীপকের বিরুদ্ধে স্কুলের এক শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হল এফআইআর।

