তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে মোদী, কী কী আলোচনা হল?

এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তৃণমূল ত্যাগী সাংসদদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হাসিমুখে উন্নয়ন, যোগাসন ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরামর্শ দিলেন তিনি।

শুক্রবার সকালে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তৃণমূল ত্যাগী সাংসদরা প্রথমে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ের বাসভবনে যান। সেখান থেকে একটি বাসে চেপে তাঁরা পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে। সেখানে প্রাতরাশ বৈঠকে তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে মোদী সাংসদদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন, তাঁদের কেন্দ্রের নানা সমস্যার কথা শোনেন। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রধানমন্ত্রী উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব ভারতের উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেককে সংসদীয় এলাকায় গিয়ে উন্নয়নের কাজ করতে বলেছেন। পাশাপাশি চল্লিশোর্ধ্ব সাংসদদের বছরে দু’বার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো ও যোগাসন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বলেছেন—“আপনারা ভাল করে কাজ করুন। আমাদের লক্ষ্যই হল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, দেশের জন্য কাজ করা।” মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার গঙ্গাসাগর মেলায় আসার আমন্ত্রণ জানান মোদীকে। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দেন, “নিশ্চয়ই চেষ্টা করব।”

বৈঠকে তিনজন মুসলিম সাংসদও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, এই ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও এখনও লোকসভার স্পিকার তাঁদের আলাদা গোষ্ঠী হিসাবে স্বীকৃতি দেননি। তৃণমূল ইতিমধ্যেই তাঁদের সাংসদপদ খারিজের দাবি জানিয়েছে। এদিকে এনসিপিআই সাংসদরা শুভেন্দু অধিকারী ও ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছেন, প্রতীক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হলে বিষয়টি সহজ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

About The Author