কলকাতা: আলিপুর প্রশাসনিক ভবনে আগুনে পুড়ে ছাই প্রায় ৪ হাজার ইভিএম; বিরোধীদের অভিযোগ, ভোট লুটের প্রমাণ নষ্টের জন্য পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড। ইতিমধ্যেই SIT গঠন করে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ।
আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের সদর দপ্তরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের চরিত্র এবং ছড়িয়ে পড়ার ধরণ দেখে হতবাক খোদ তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। ভবনের অগ্নিসংযোগের চরিত্র দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনিও। মন্ত্রী জানান, চার ও পাঁচ তলায় আগুন লাগার পর তা মাঝের তলাগুলি সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে সরাসরি নয় ও দশ তলায় কীভাবে পৌঁছে গেল, তা অত্যন্ত রহস্যজনক এবং তদন্তসাপেক্ষ।
এদিকে, এই ঘটনার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই ঘটনায় প্রায় ৪ হাজার কন্ট্রোল ইউনিট, ৪ হাজার ব্যালট ইউনিট এবং ৪ হাজার ভিভিপ্যাট মেশিন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে অভিযোগ। এগুলি কলকাতার কসবা, যাদবপুর, বেহালা পূর্ব-পশ্চিম, মেটিয়াবুরুজ, সাতগাছিয়া ও ডায়মন্ড হারবার মহকুমার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিরোধীরা সরাসরি ভোট লুটের অভিযোগ তুলছে। তাঁদের দাবি, ২৬-এর নির্বাচনে বিনোদিন ভোট লুটের প্রমাণ লোপাট করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, “যদি নিছক দুর্ঘটনা হয়, তবে নির্বাচন কমিশন এতদিন চুপ কেন?” অন্যদিকে বিজেপির এক মন্ত্রীও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আদালতে এর আগে ইভিএম ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের আবেদন করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে এই অগ্নিকাণ্ডকে বিরোধীরা পরিকল্পিত বলে দাবি করছে। প্রশাসনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

