রামমন্দিরে দানের ৭ কোটি টাকা উধাও! কোষাধ্যক্ষের ঘরে গোবরের স্তুপে মিলল ১০ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যেই সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে যোগী প্রশাসন।
অযোধ্যার রামমন্দিরে দানের টাকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছে। রুদাউলিতে এক কর্মীর বাড়ি থেকে গোবরের স্তূপের আড়ালে ১০-১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু মোট কত টাকা গায়েব হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মী লবকুশ মিশ্র আগে গাড়ির মেকানিক ছিলেন। পরে রামমন্দির প্রশাসনে চাকরি পান এবং ধীরে ধীরে তাঁর আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়।
রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র গত পাঁচ দিনে দ্বিতীয়বার অযোধ্যায় পৌঁছেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দায়িত্ব ছিল কেবল নির্মাণকার্য দেখা, বিতর্কে তিনি জড়াচ্ছেন না। তবে লবকুশের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। দানের টাকা গোনার দায়িত্বে থাকা দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মাসিক বেতন ছিল মাত্র ১৮-২০ হাজার টাকা। অথচ সম্প্রতি একজন ১.৫ কোটি টাকার জমি কিনেছেন, আরেকজন কিনেছেন ৪০ লক্ষ টাকার জমি। এই অস্বাভাবিক সম্পত্তি বৃদ্ধিই সন্দেহ বাড়াচ্ছে।
অযোধ্যার পুরোহিতরা ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী পবন পান্ডে অভিযোগ করেছেন, রামমন্দির থেকে প্রায় ৫-৭.৫ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপে SIT গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, ভক্তদের দেওয়া দান স্বচ্ছভাবে ব্যবহার না হলে তা ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা। এখন নজর তদন্তে—উধাও হওয়া কোটি কোটি টাকা আসলে কোথায় গেল এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত।

