বিস্কুট চাওয়ায় পড়ুয়াকে লাথি, অভিভাবককে মার, শেষে পুলিশকেও আক্রমণ! শিক্ষকের কীর্তিতে তুলকালাম

জলপাইগুড়ি: এ কেমন শিক্ষক! বিস্কুট খেতে চাওয়ায় খুদে পড়ুয়াকে লাথি মেরে রক্তারক্তি কাণ্ড! কথা বলতে গেলে পড়ুয়ার বাবাকেও লাথি মেরে আটকে রাখল স্কুল ঘরে। খবর পেয়ে পুলিশ ধরতে এলে পুলিশকেও আক্রমণের চেষ্টা! রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটার জুম্মাগছের একটি প্রাইমারি স্কুলে এক শিক্ষকের কাণ্ড কীর্তি দেখে হতবাক গ্রামবাসীরা। অভিযুক্ত স্যারের নাম নাজির শাহ।

জানা গেল, গত শনিবার স্কুলে স্যারের কাছে বিস্কুটের প্যাকেট চেয়েছিল ক্লাস টু’য়ের এক ছাত্র রাজ মাঝি। আর তাতেই নাকি শিক্ষক বেজায় রেগে গিয়ে পিঠে সজোরে লাথি মেরে দেওয়ালে ঠেলে ফেলে দেন। এতে রক্তারক্তি অবস্থা হয় পড়ুয়ার।

ক্লাস টু-এর ওই ছাত্র পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গিয়ে পরিবারের লোকেদের জানায় সব কথা। সোমবার স্কুল খুললে পরিবারের লোকেরা স্কুলে যান। এরপর ওই শিক্ষকের কাছে রাজের বাবা কারণ জিজ্ঞাসা করেন। প্রশ্ন শুনে ওই শিক্ষক ফের খেপে যান। এরপর তিনি রাজের বাবাকে ক্লাসরুমে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। এবং তালা বন্ধ করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।

সেই অবস্থায় চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এসে ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। গোটা ঘটনা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। সকলে মিলে এবার সেই শিক্ষকের ঘরে দরজা আটকে তালা বন্ধ করে দেন। দাবি ওঠে—যতক্ষণ না ওই শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হবে, ততক্ষণ স্কুলে তালা খোলা হবে না।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। ভিড় করেন বহু গ্রামবাসী। ঘটনাস্থলে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ পৌঁছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকতার ইসলাম ও অভিযোগকারী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পুলিশ আটকে রাখা শিক্ষককে ঘর থেকে বের করে আনেন।

সেই সময় শিক্ষক বলেন তিনি বাথরুমে যাবেন। কিন্তু বাথরুম থেকে বেরিয়েই পুলিশের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাকে গাড়িতে তুলে রাজগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, ওই শিক্ষকের নাম নাজির শাহ। তিনি ফুলবাড়ী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা।

প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযোগকারী শিক্ষক মানসিকভাবে সুস্থ নন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভিনরাজ্যে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবুও কীভাবে তিনি স্কুলে পড়াচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও তিনি বহু ঘটনা ঘটিয়েছেন।

About The Author