নয়াদিল্লি: সংবিধান মেনে চলতে না পারলে দেশ ছেড়ে দিন! হোয়াট্সঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তীব্র সমালোচনা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানালেন, নাগরিকদের তথ্যের সঙ্গে কোনও আপস হবে না।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে হোয়াট্সঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শোনা গেল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, নাগরিকদের তথ্য নিয়ে কোনওরকম খেলা চলবে না। তিনি বলেন, “আপনারা গোপনীয়তা নিয়ে খেলা করতে পারেন না। আমাদের কোনও তথ্য আমরা আপনাদের ফাঁস করতে দেব না।”
হোয়াট্সঅ্যাপের হয়ে সওয়াল করা কৌঁসুলি যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই তাঁদের নীতি তৈরি হয়েছে। মেটার তরফে দাবি করা হয়, তথ্য আদানপ্রদান শুধুমাত্র সংস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই হয়। তবে শীর্ষ আদালত এই যুক্তি মানতে নারাজ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বাণিজ্যিক কাজে তথ্য ব্যবহারকে কোনওভাবেই মান্যতা দেওয়া যাবে না। ভারতের গোপনীয়তার নীতি ইউরোপের নিয়ম থেকে আলাদা, সেটিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, হোয়াট্সঅ্যাপের নীতি অপব্যবহার হতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য বাণিজ্যিক লাভের জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে। আদালত প্রশ্ন তোলে, সাধারণ মানুষ, বিশেষত আঞ্চলিক ভাষাভাষী ব্যবহারকারীরা আদৌ এই নথি বুঝতে পারবেন কি না।
অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানির আগে ব্যবহারকারীর কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনতে পারবে না হোয়াট্সঅ্যাপ। একই সঙ্গে মেটা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য জানাতে হবে।

