শিলিগুড়ি: ট্রেনিং চলাকালীন ক্যাম্পেই এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ডাবগ্রাম এলাকায়। মৃত যুবকের নাম পঙ্কজ বর্মন, তিনি মাথাভাঙ্গা থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার ছিলেন। বাড়ি মাথাভাঙ্গাতেই।
জানা গেছে, সোমবার ভোররাতে প্রায় সাড়ে চারটা নাগাদ তাঁকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে দোতলার ঘর থেকে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ক্যাম্পে হইচই শুরু হয়। সহকর্মী সিভিক ভলেন্টিয়াররা দেহ আটকে রেখে প্রতিবাদে সামিল হন।
পুলিশের ভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সহকর্মীরা দেহ ছাড়তে রাজি হননি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ট্রেনিং চলাকালীন শারীরিক কোনও সমস্যার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, শনিবার থেকে শুরু হয়েছিল তাদের ট্রেনিং। চলবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত। এরমধ্যেই ক্যাম্পে রহস্য মৃত্যু। কোনও পুলিশকর্তার প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ক্যাম্পে সিভিকদের দাবি, কুকুরের খাবারের মতোই এখানকার খাবারদাবারের অবস্থা। মেডিকেল টিম নেই, স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো বালাই নেই—এমনভাবেই চলছে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের প্রশিক্ষণ।
সোমবার ভোররাতে পুলিশ ক্যাম্পে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারের রহস্যমৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো ডাবগ্রাম এলাকায়। ব্যবস্থার অব্যবস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন সিভিক ভলেন্টিয়াররা। উঠে গেল সরকারের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন।
মাথাভাঙা থানার কর্মরত এক সিভিক ভলেন্টিয়ার, পঙ্কজ বর্মন, রাত দু’টো নাগাদ মারা যান। অভিযোগ, এরপরও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়নি। ঘটনা জানাজানি হতেই রাতের অন্ধকারে শতাধিক সিভিক ভলেন্টিয়ার একসঙ্গে অব্যবস্থার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। তারা বলেন, প্রতিকার না হওয়া পর্যন্ত দেহ ছাড়া হবে না। সকালের আলো ফুটতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, শনিবার থেকে শুরু হয়েছিল ছ’দিনের ট্রেনিং। রোববার রাতে ঘুমানোর পরেই পঙ্কজ বর্মনের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা নেই, খাবারের জন্য দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এই ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা সিভিক ভলেন্টিয়াররা সোচ্চার হন।
বিষয়টি নিয়ে দুপুরে পরিদর্শনে যান বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। তিনি সরকারের গাফিলতিকে তুলে ধরেন। যদিও এখনও এ বিষয়ে প্রশাসনিক বা পুলিশি তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মৃত পঙ্কজ বর্মনের পরিবারে স্ত্রী, সন্তান ও প্রতিবন্ধী বাবা রয়েছেন। অভিযোগ, ক্যাম্পের নামে এখানে এনে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের মারার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

