কলকাতা: পূর্ব ভারতে প্রথমবারের মতো কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃতের হাড় প্রতিস্থাপিত হল এক যুবকের শরীরে। প্রথমবারের মতো অস্টিওকন্ড্রাল অ্যালোগ্রাফ্ট পদ্ধতি সম্পন্ন হয়েছে। এই জটিল অস্ত্রোপচারে মৃতদেহ থেকে নেওয়া হাড় ও তরুণাস্থি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
জানা গেল, ৩১ বছর বয়সী দৈনিক মজুর রিজাউদ্দিন মণ্ডল তিন বছর আগে দুর্ঘটনায় ডিস্টাল ফিমারের হাড় ভেঙেছিলেন। একাধিক অস্ত্রোপচারেও তাঁর অঙ্গ বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকরা জানান, অঙ্গচ্ছেদ ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না। তবে রোগীর বয়স বিবেচনা করে তাঁরা অ্যালোগ্রাফ্টের মাধ্যমে হাঁটু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন।
প্রশাসনের অনুমোদনে প্রায় ২.৪ লক্ষ টাকা খরচে হায়দ্রাবাদ থেকে অ্যালোগ্রাফ্ট সংগ্রহ করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে গ্রাফ্টকে বিশেষ চিকিৎসা করা হয় যাতে গ্রহীতার শরীর তা প্রত্যাখ্যান না করে।
অর্থোপেডিক সার্জন সঞ্জয় কুমার জানান, “রোগীর হাঁটু সংরক্ষণের জন্য আমরা অ্যালোগ্রাফ্টকে সর্বোত্তম বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছি।” অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন ডাক্তার সুনিত হাজরা, সুমন্ত পাল ও দেবজ্যোতি।
ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সপ্তর্ষি চ্যাটার্জি বলেন, “আমাদের জানা মতে পূর্ব ভারতে এই ধরণের প্রথম অস্ত্রোপচার।” রোগী বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং হাঁটাচলার আশায় দিন গুনছেন।

