শ্রীগঙ্গানগর: সদ্য বিয়ে, তিন মাস যেতে না যেতেই… প্রেমিকের সঙ্গে ছক কষে স্বামীকে খু*ন করলেন স্ত্রী! মেঘালয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবার রাজস্থানে।
সদ্য বিবাহিত এক দম্পতির উপর হামলার ঘটনায় প্রথমে মনে হয়েছিল এটি একটি সাধারণ হিট অ্যান্ড রান কাণ্ড। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে এল ভয়াবহ সত্য। পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রী অঞ্জু নিজের স্বামী আশীষকে খুনের ছক কষেছিলেন তাঁর প্রেমিক সঞ্জু ও আরও দু’জন সহযোগীর সঙ্গে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জানুয়ারি রাতে। শ্রীগঙ্গানগরের পুলিশকে খবর দেওয়া হয়, এক দম্পতি রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আশীষকে মৃত ঘোষণা করেন। অঞ্জু দাবি করেছিলেন, একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মারে এবং তাঁর গয়না ছিনতাই করা হয়।
তবে তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয়। আশীষের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অথচ অঞ্জুর শরীরে কোনও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফোনের কল রেকর্ডে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিবাহের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই অঞ্জু স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে নিজের শহরে ফিরে যান এবং সেখানে সঞ্জুর সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করেন। এরপরই পরিকল্পনা হয় আশীষকে খুন করার। ঘটনার রাতে অঞ্জু স্বামীকে হাঁটার অজুহাতে একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে সঞ্জু ও তাঁর দুই সহযোগী রোহিত ও সিদ্ধার্থ ওঁত পেতে ছিল। তারা আশীষকে নির্মমভাবে আক্রমণ করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
অঞ্জু নিজের ফোন ও কানের দুল হামলাকারীদের দিয়ে দেন, যাতে ঘটনাটি ছিনতাই ও দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। পরে তিনি অচেতন হওয়ার ভান করেন। কিন্তু আশীষের শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন এবং অঞ্জুর বারবার বদলানো বয়ান পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ায়। অবশেষে চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে এখন ‘রাজস্থানের হানিমুন মর্ডার’ বলা হচ্ছে। এর আগে মেঘালয়ে একই ধরনের ঘটনায় স্ত্রী স্বামীকে হানিমুনে খুন করেছিলেন, সেই ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

