কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলায় ও হিন্দি, দুই ভাষাতেই প্রকাশিত এই চিঠিতে তিনি প্রথমেই মা কালী-র জয় দিয়ে শুরু করেছেন।
মোদীর লেখার শুরুতেই রয়েছে, ‘আগামী কয়েক মাসে বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে।’ বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গবাসীর মন পেতে মরিয়া মোদী, তা বলাই বাহুল্য। তিনি দাবি করেছেন, যারা ‘সোনার বাংলার’ স্বপ্ন দেখেন তারা আজ কষ্ট পাচ্ছেন। চিঠিতে লেখেন, ‘আপনাদের সেবা করার একটি সুযোগের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি’।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার জনকল্যাণ ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। কৃষক, যুবক, মহিলা ও দরিদ্রদের জন্য চালু করা প্রকল্প ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্য সরকারের সহযোগিতা না থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। জন ধন যোজনার মাধ্যমে বহু মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্পকে ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলার মা ও বোনেরা নিরাপদ নন, অবৈধ অভিবাসন ও মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসা রাজ্যকে কলঙ্কিত করেছে। সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি, হিংসা ও অরাজকতার মধ্যে রাজ্য জড়িয়ে পড়েছে। ভুয়ো ভোটারদের প্রসঙ্গও তিনি তুলেছেন।
মোদীর কথায়, স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়নে শীর্ষে ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক হিংসা, দুর্নীতি ও তোষণ রাজ্যের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি যুবসমাজের অভিবাসন ও বিনিয়োগের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেছেন, বাংলার ভূমির নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
চিঠিতে তিনি আয়ুষ্মান ভারত, আবাসন প্রকল্প ও মহিলাদের সুরক্ষার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন— “২০২৬ সালের মধ্যে উন্নত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলাই লক্ষ্য।” এই চিঠিকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরাসরি জনসাধারণের কাছে আবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে এই বার্তা নির্বাচনী বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।

