‘এখনও বলার মতো পরিস্থিতি আসেনি’, হরমুজে ভারতীয় জাহাজ ছাড় নিয়ে মুখ খুলল বিদেশমন্ত্রক

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ইরান ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে নিরাপদে যেতে দেবে। তবে বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র স্পষ্ট জানালেন, “এখনও বলার মতো পরিস্থিতি আসেনি।”

মুখপাত্র জানান, গত কয়েক দিনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচির মধ্যে তিন দফা আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ আলোচনায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয়েছে। তবে এর বাইরে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

এদিকে সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা লিবারিয়ান পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘শেনলং’ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে মুম্বই বন্দরে পৌঁছেছে। এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অর্ধেকেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, এদিন সংসদে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। তিনি বলেন, “গ্যাস-পেট্রলের কোনও সংকট নেই দেশে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ২০% জ্বালানি আসছে না, তবে আমরা উৎপাদন ২৮% বাড়িয়ে দিয়েছি।”

মন্ত্রী জানান, দেশের রিফাইনারিগুলি সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে, অনেক ক্ষেত্রে ১০০%-এরও বেশি। পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) ও ফুয়েল অয়েলের কোনও ঘাটতি নেই। বর্তমানে নন-হরমুজ সোর্সিং থেকে অপরিশোধিত আমদানি প্রায় ৭০%-এ পৌঁছেছে, যা সংঘাতের আগে ছিল ৫৫%।

তিনি আরও বলেন, ভারতের তেল আমদানির উৎস ২০০৬-০৭ সালে ছিল ২৭টি দেশ, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০টি দেশে। আমেরিকা, নরওয়ে, কানাডা, আলজেরিয়া ও রাশিয়া থেকে বড় জাহাজ এনে সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। প্রতিদিন বিকল্প পথে বড় LNG কার্গো আসছে, ফলে গ্যাস সরবরাহেও কোনও ঘাটতি নেই।

বিরোধীরা এ সময় সংসদে বিক্ষোভ দেখালেও মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “প্রতিটি বাড়ি ও শিল্পের জন্য শক্তির কোনও ঘাটতি নেই। আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।”

About The Author