কলকাতা: ২৬-এর ভোট ঘোষণার আগে শনিবার ব্রিগেডে জনসভায় মোদীর আক্রমণাত্মক ভাষণ। তৃণমূলকে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রপতির ‘অপমান’ প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ, পাশাপাশি সরকারি অনুষ্ঠানে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “এবার তৃণমূল যাচ্ছেই, যতই চেষ্টা করুক, কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
মোদী তাঁর বক্তব্যে একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন। প্রথমেই তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু–র শিলিগুড়ি সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার রাষ্ট্রপতির সম্মান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং তাঁকে অপমান করেছে। মোদীর কথায়, “এটা শুধু রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, বাংলার আদিবাসী সমাজেরও অপমান।”
এরপর তিনি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তোলেন। মোদীর দাবি, তৃণমূল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়েছে। এর ফলে বাংলার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে, আর বাঙালি হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ার পথে।
তিনি দুর্নীতি ও কাটমানির অভিযোগও তোলেন। চাকরি বিক্রি, নিয়োগ দুর্নীতি, গরিবদের প্রকল্পে কাটমানি—সবই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। মোদী বলেন, “তৃণমূলের রাজত্বে বাংলার গরিবরা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত, জলজীবন মিশন, বিশ্বকর্মা প্রকল্প—সবই আটকে দেওয়া হয়েছে।” সন্দেশখালি ও আর জি কর হাসপাতালের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বাংলার কোনও জায়গাই সুরক্ষিত নয়। অপরাধীরা তৃণমূলের আশ্রয়ে থেকে মহিলাদের উপর অত্যাচার করছে।
জনসভায় মোদী উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণাও করেন। প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, হলদিয়া ডক আধুনিকীকরণ, ইছামতী নদীর উপর সেতু এবং অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে ছ’টি স্টেশনের সৌন্দর্যায়ন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা উদ্ধৃত করে মোদী বলেন, “এবারের নির্বাচন বাংলার আত্মাকে বাঁচানোর নির্বাচন। এটা ভয়মুক্তির ভোট।” তাঁর দাবি, বাংলায় আবার আইনের শাসন ফিরবে এবং তৃণমূলের ‘গুন্ডারাজ’ শেষ হবে।

