কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশন এবং সিইও দফতরের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এবং সিইও দফতর নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না এবং রাজ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর দাবি, কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট। তাই তিনি সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামলেন। নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। রবিবার এই মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মূলত ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে মমতার সাক্ষাতের আগে এই মামলা দ্বন্দ্বের পরিবেশ আরও তীব্র করে তুলল। আদালত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানি হতে পারে। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এআইআর মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।
এর আগে তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন, ডেরেক ও’ ব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্রও আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মমতা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনারকে ছ’টি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশিক্ষণহীন প্রায় ৮,১০০ জন মাইক্রো-অবজ়ারভারকে একতরফাভাবে মাঠে নামানো হয়েছে, যা আইনসঙ্গত নয়।
মমতার দাবি, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ইআরও এবং এইআরও-দের হাতে ন্যস্ত। সেখানে মাইক্রো-অবজ়ারভারদের সক্রিয় হস্তক্ষেপ আইনবিরুদ্ধ। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আদালতে মামলা ও ধারাবাহিক চিঠি পাঠিয়ে মমতা কমিশনের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন।

