কলকাতা: প্রবাসী বাঙ্গালী ইউটিউবার মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায় শাশুড়ির মৃত্যু এবং শেষ কাজ নিয়ে ভ্লগ ভিডিও প্রকাশ করেছেন। আর সেই ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক, সমালোচনার ঝড়। প্রিয়জনের মৃত্যুতে ক্যামেরা করে ভিডিও ছাড়া কতটা মানবিক? উঠছে প্রশ্ন। তবে একাংশের মতে, এটি জীবনের বাস্তবতাকে ভাগ করে নেওয়া।
‘নমস্কার, কেমন আছেন সবাই। প্রবাসের ঘরকন্নায় সবাইকে স্বাগত’, এই পরিচিত সম্বোধনে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যান ইউটিউবার মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর চ্যানেল প্রবাসে ঘরকন্না প্রবাস জীবনের খুঁটিনাটি তুলে ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি শাশুড়ির মৃত্যুতে প্রকাশিত একটি ভিডিও তাঁকে দাঁড় করিয়েছে তীব্র সমালোচনার মুখে।
ভিডিওটিতে শাশুড়ির মরদেহের সামনে কান্নাকাটি থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের নানা দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই ব্যক্তিগত শোককে ক্যামেরার সামনে আনা নিয়েই নেটিজেনদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সিংহভাগের অভিযোগ, “মানুষ মারা গেছে, তাকে নিয়ে ভিউ ব্যবসা করা কি জরুরি? শাশুড়ির জায়গায় নিজের মা হলে কি ক্যামেরা অন করতেন?” তাঁদের মতে, প্রিয়জনের মৃত্যু অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়, তা ভিডিও করে প্রকাশ করা উচিত নয়। কেউ কেউ আরও কটাক্ষ করেছেন, বিমানের টিকিটের খরচ তুলতেই এই ভিডিও করা হয়েছে। এমনকি মহুয়ার স্বামী মানিকবাবুর শরীরী ভাষা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা চলছে।
তবে অন্যদিকে মহুয়ার অনুরাগীদের একাংশের দাবি, তিনি বরাবরই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। সেই হিসেবে পরিবারের একজনের মৃত্যু সংবাদ জানানো তাঁর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তাঁদের মতে, এটি ভিডিও নয়, বরং জীবনের কঠিন বাস্তবকে তুলে ধরা।
এই বিতর্ক এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা কোথায় টানা উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

