পথ দুর্ঘটনা ঠেকাতে মহাযজ্ঞ! সমালোচনার মুখে রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়

রাজগঞ্জ: পথ দুর্ঘটনা কমাতে মহাযজ্ঞের আয়োজন করলেন তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জে সম্প্রতি পরপর দুর্ঘটনা ঘটে, মারা যান বেশ কয়েকজন। এরপরই এমন সিদ্ধান্ত। তবে প্রশ্ন উঠছে, দেবতাকে খুশি করলেই যদি সমাধান হত, তাহলে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ প্রচার করার কি দরকার?

পথ দুর্ঘটনা কমাতে মহাযজ্ঞের আয়োজন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। গত কয়েক বছরে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই এলাকায়। এমনকি সম্প্রতি দুই তৃণমূল নেতাও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বিধায়কের দাবি, গত দু’বছরে তাঁর বিধানসভা এলাকায় ৫০ জনের বেশি মানুষ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। তাই মৃতদের আত্মার শান্তি ও ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধের উদ্দেশ্যে তিনি মহাযজ্ঞের আয়োজন করেন।

বৃহস্পতিবার শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতিলাভাষা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এই মহাযজ্ঞ। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মন, ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপালি দে সরকারসহ তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী। দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সদস্যরাও এই যজ্ঞে অংশ নেন।

তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। আমজনতার দাবি, যাগযজ্ঞ করে দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব নয়। বেড়ে চলা জনসংখ্যা ও যানবাহনের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য আরও পুলিশকর্মী নিয়োগ ও ট্রাফিক পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। যুক্তিবাদী সংগঠনগুলির বক্তব্য, দুর্ঘটনা রোধে চাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচার।

বিরোধী দলগুলিও সমালোচনায় সরব। সিপিএমের দাবি, যজ্ঞ নয়, বরং পুলিশ বাড়ানো ও সড়ক নিরাপত্তায় জোর দেওয়া উচিত। বিজেপি বলেছে, ভোটের মুখে ঠেলায় পড়ে তৃণমূল বিধায়ক রামনাম জপ করছেন। অর্থাৎ, পথ দুর্ঘটনা কমাতে মহাযজ্ঞ আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজগঞ্জে যেমন ধর্মীয় আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।

About The Author