ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি: কেন বলা হচ্ছে ‘মাদার অফ অল ডিলস’?

নয়াদিল্লি: ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক-যুদ্ধ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির চাপের মাঝেই বিশ্ব রাজনীতিতে ঘটল নাটকীয় পালাবদল।

দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনার পর অবশেষে চূড়ান্ত হল ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই ঘোষণা করেছেন, গোটা বিশ্ব এই চুক্তিকে বলছে “সব চুক্তির জননী”। কেন এমন বলা হচ্ছে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে চুক্তির ব্যাপক প্রভাবের মধ্যে।

চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রফতানি করা যাবে। একইসঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলির ৯৬.৬ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ভারতে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ দুই বাজারে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

ভারতের বাজারে সস্তা হবে ইউরোপীয় ওয়াইন, বিয়ার, অলিভ অয়েল, মার্জারিন, ফলের রস, চকোলেট, পাস্তা, বিস্কুট, পোষ্যদের খাবার, ভেড়ার মাংস ও সসেজের মতো পণ্য। অন্যদিকে ইউরোপে ভারতীয় বস্ত্র, গয়না, রাসায়নিক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আরও প্রতিযোগিতামূলক দামে পৌঁছবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে প্রায় ১৯০ কোটি ক্রেতা সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশ্বে রফতানিযোগ্য ২৫ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার হওয়ায় ভারত-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। তাই একে বলা হচ্ছে “মাদার অফ অল ডিলস”—কারণ এর প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে নয়, কূটনৈতিক সমীকরণেও গভীর ছাপ ফেলবে।

এই চুক্তির ফলে ভারতের বস্ত্র, রাসায়নিক ও গয়না শিল্প ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত বা নামমাত্র শুল্কের সুবিধা পাবে। কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যকে চুক্তির বাইরে রেখে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি ভারতের বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে, কারণ আমদানিকৃত গাড়ির ওপর শুল্ক ১১০% থেকে কমিয়ে ৪০%-এ আনা হয়েছে।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছে, ইউরোপ ভারতের মাধ্যমে রাশিয়াকে পরোক্ষভাবে সাহায্য করছে। তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই চুক্তি বিশ্বমঞ্চে ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতির বড় জয়।

About The Author