ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুকে সমবেদনা জানাল ভারত

নয়াদিল্লি: ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি-র মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাসে গিয়ে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কনডোলেন্স বুকে স্বাক্ষর করেন। সেখানে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর জন্য ইরানের প্রতি ভারতের সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হন খামেনি। এর পর থেকে ভারত সরকার নীরব ছিল। বৃহস্পতিবারই প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানানো হলো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে খামেনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন। তিনি লিখেছিলেন, “ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের একজন খামেনি মারা গিয়েছেন। এটি ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার।”

খামেনির মৃত্যু পশ্চিম এশিয়াকে যুদ্ধের আগুনে ফেলে দিয়েছে। সংঘাত ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলে পৌঁছেছে। মার্কিন সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। আজারবাইজান অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১,০৪৫ জন সামরিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানে মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ফুটবল স্টেডিয়াম, পৌরসভা ভবন ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবারও যুদ্ধ নিয়ে মুখ খুলে বিশ্ব শান্তির পক্ষে সওয়াল করেন। ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মোদী বলেন, “ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়া পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত। সামরিক উপায়ে কোনও সমস্যার সমাধান হবে না। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই শান্তি ফিরতে হবে।”

About The Author