নয়াদিল্লি: লোকসভায় বাজেট বক্তৃতায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় সরকারের করনীতি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে।
সাংসদ অভিষেকের কথায়, “আমি এমন এক ভারতবর্ষ থেকে আসি, যেখানে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর কথা বলা হয়। আবার আমি এমন এক ভারতবর্ষ থেকেও আসি, যেখানে মাতৃভাষা বাংলায় কথা বললেই সন্দেহের চোখে বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। মাছ খেলে ‘মুঘল’ বলা হয় বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা জুড়ে দেওয়া হয়।”
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন দাবি করেছিলেন, তিনি দেশবাসীকে একটি সরল কর ব্যবস্থা উপহার দিয়েছেন। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সেই কর ব্যবস্থা আসলে সাধারণ মানুষের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সদ্যজাত শিশুর দুধ ও ডায়াপার থেকে শুরু করে স্কুলের খাতা-কলম, প্রাপ্তবয়স্কের আয় ও সঞ্চয়, প্রতিদিনের ভোগ্যপণ্য, অফিসে যাতায়াতের জ্বালানি, অসুস্থতায় ওষুধ, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, সবকিছুতেই কর দিতে হচ্ছে। এমনকি মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে ধূপকাঠি জ্বালাতেও করের ফাঁস থেকে মুক্তি নেই।
অভিষেকের বক্তব্যে উঠে আসে, এই বাজেট ধনী কর্পোরেটদের জন্য সুবিধাজনক হলেও সৎ করদাতাদের জন্য চক্রব্যূহে আটকে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ প্রতিটি ধাপে করের বোঝায় জর্জরিত, অথচ কর্পোরেটরা সহজেই মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় করনীতির ফাঁসের চিত্র তুলে ধরে সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা বলেছেন।

