‘১১৭৬ হরে কৃষ্ণ’ এখন ফেসবুক খুললেই একটাই লেখা, সামাজিক মাধ্যমে ট্রেন্ড করছে ‘১১৭৬ হরে কৃষ্ণ’ (1176 Hare Krishna)। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ব্যাপার কি? হঠাৎ কি হল? এই লেখা শেয়ার করছে কেন সবাই?
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, কর্ম করে যাও, ফলের প্রত্যাশা করোনা। তবে এই মুহূর্তে মানুষ বলছেন, ‘১১৭৬ হরে কৃষ্ণ’ লিখেই নাকি জীবনে না পাওয়া মনের বাসনা পূর্ণ হয়। পোস্টে লেখা হচ্ছে, ‘বিশ্বাস করতে পারছি না এটা সত্যি হয়! বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদুর’। ফেসবুকে কয়েকজন দাবি করেছেন, ১১৭৬ হল হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের শব্দ সংখ্যা, তাই এক মুহূর্তে এই মহামন্ত্রের ফল পেতে ১১৭৬ হরে কৃষ্ণ লিখতে হয়। আবার কেউ বলছেন, ১১৭৬ হল একটি ম্যাজিক সংখ্যা। এর ব্যবহারে নাকি জীবনে শুভলাভ হয় এবং মনের বাসনা পূর্ণ হয়। এই ম্যাজিক সংখ্যার এমনই শক্তি, যার মাধ্যমে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেন সাধারণ মানুষ।
ফেসবুকে কয়েকজন দাবি করেছেন, ‘হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র হল, ১১৭৬ শব্দের একটি মন্ত্র যা রঘুনন্দন ভট্টাচার্য রচিত কলি-সন্তরণ উপনিষদে বর্ণিত, এবং যা ষোড়শ শতাব্দীর সময় থেকে চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষণের মাধ্যমে ভক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মন্ত্রটি পরম সত্তার তিনটি সংস্কৃত নাম দ্বারা রচিত, হরে, কৃষ্ণ এবং রাম।’
তবে উপরের এই লেখা হুবুহু ‘হরে কৃষ্ণ মন্ত্র’ নামের একটি উইকিপিডিয়া পেজ থেকে কপি করে প্রচার করা হয়েছে। এখানে ১৬ শব্দের জায়গায় ১১৭৬ শব্দ লিখে প্রচার করা হচ্ছে। হতে পারে ১১৭৬ সংখ্যা কোনও ম্যাজিক্যাল নাম্বার, তাই বলে শাস্ত্র বিকৃত করে কেন এমন ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে? প্রশ্নের উত্তর নেই প্রচারকারীদের মুখে। গীতা উল্লেখ করে প্রচার করলেও কজন গীতা পড়েছেন তা বলাই বাহুল্য।
ভগবান কৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, ‘কর্ম করে যাও, ফলের আশা করোনা’। আর এদিকে তারই ভক্ত সেজে কুসংস্কারে গাঁ ভাসাচ্ছেন আম জনতা। এমনটাই মনে করছেন বিজ্ঞজনেরা। যদিও আলাদা করে ১১৭৬ সংখ্যার প্রচলিত মান্যতা আছে, যেখানে জীবনে সুখ, উন্নতি এবং ধনাত্মক পরিবর্তনের সহায়ক বলে মানা হয়। তবে তার সঙ্গে কাজে একাগ্রতা, জীবনে সৎ চিন্তা ইত্যাদিও জরুরী। বর্তমানে আচমকাই এই সংখ্যার সঙ্গে হরে কৃষ্ণ শব্দের যোগ শুধুমাত্র ট্রেনডে গাঁ ভাসানো ছাড়া আর কিছু নয়।
নিচে ছবি দেখুন: ফেসবুকে যেমনটা দাবি করা হচ্ছে এবং উইকিপিডিয়া পেজে যেমনটা লেখা রয়েছে


