‘বন্ধু’ মোদীকে স্বাধীনতা দিবসে আমন্ত্রণ নেতানিয়াহুর

ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে মোদীকে আমন্ত্রণ নেতানিয়াহুর। ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে মশাল জ্বালানোর প্রস্তাব, ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়া নিয়েও আলোচনা।

ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মশাল জ্বালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানালেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার ফোনে কথা হয় দুই প্রধানমন্ত্রীর। আমন্ত্রণের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে তাঁদের।

সামাজিক মাধ্যমে ফোনালাপের কথা জানিয়ে মোদীকে নিজের ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী বছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মোদী ও মাচ্ছারকে একসঙ্গে মশাল জ্বালানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। আমন্ত্রণের জন্য মোদী তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও জানান নেতানিয়াহু। তবে এই আমন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মোদীর সফরের বিস্তারিত সূচি প্রকাশিত হয়নি।

ভারতীয় পাইলট মাচ্ছারকে আমন্ত্রণ জানানোর পিছনে রয়েছে উড়ন্ত বিমানে হামলার সময় তাঁর ভূমিকা। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে নিজের সহ-পাইলটের হামলার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন মাচ্ছার। এতে অন্যদের পক্ষে ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। পরে বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।

ওই ঘটনার তদন্ত করছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল থেকে দেওয়া বিবরণে মাচ্ছার জানিয়েছেন, হামলার সময় নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। মাথা ও হাতে আঘাত পেয়েও তাঁর প্রতিরোধ এবং অন্যদের হস্তক্ষেপে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, ফোনালাপে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন দুই নেতা। বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছেন তাঁরা। পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে আলোচনায়।

আঞ্চলিক সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির পক্ষে ভারতের অবস্থান পুনরায় জানিয়েছেন মোদী। দুই দেশের সহযোগিতার প্রসঙ্গের পাশাপাশি চলতি পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেও সম্মত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। ফলে স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণের সঙ্গে এই ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর প্রশ্নও গুরুত্ব পেয়েছে।

About The Author