সরকার ‘জনস্বার্থ’ বললেও তাঁর বদলিকে ঘিরে ধর্মীয় শব্দ ব্যবহারের বিতর্কই আলোচনার কেন্দ্রে। আইপিএস আধিকারিক ডঃ বুশরা বানোর বদলি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত আসলে তাঁর একটি ভিডিওকে ঘিরে। সেখানে তিনি নিজের সিভিল সার্ভিসে আসার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন, যেখানে শুরুতে “আসসালামু আলাইকুম” বলেছিলেন। পরে “ইনশাল্লাহ” শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।
এই ধর্মীয় অভিবাদনকে কেন্দ্র করে কিছু হিন্দু সংগঠন আপত্তি জানায় বলে দাবি। অভিযোগ যায় রাজ্যের হোম সেক্রেটারির কাছে, সরকারি পোশাক পরে ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার কতটা উপযুক্ত, সেই প্রশ্ন তোলা হয়। এই ভিডিও প্রকাশের পর কিছু সংগঠন আপত্তি জানায়, দাবি করে যে সরকারি পোশাক পরে ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
এরপরই তাঁকে খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বদলির কারণ হিসেবে কেবল “জনস্বার্থ”-এর কথা বলা হয়েছে। তবে নেটমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্কের সঙ্গে এই বদলির যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বলেছেন, শুধুমাত্র “আসসালামু আলাইকুম” বলার কারণে একজন মুসলিম আইপিএস অফিসারকে বদলি করা হলে তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। অন্যদিকে সরকারি মহল থেকে বলা হয়েছে, বদলি প্রশাসনিক কারণে হয়েছে। প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকিও। মুসলিম হওয়ার কারণেই এমন পদক্ষেপ বলে দাবি তাঁর।

