বাংলাদেশের গাইবান্ধায় বিশ্বের সর্বোচ্চ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্থানীয় রাধাগোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। তাঁর পরিকল্পনা ছিল ৮১–৮২ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের। কিন্তু সেই উদ্যোগে শুরু থেকেই নানা বাধা আসে। স্থানীয় ইসলামপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি বিরোধিতা করে, মন্দিরের অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে মূর্তি নির্মাণ স্থগিত করতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগে মামলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। সিআইডির দাবি, হাওয়ালার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার করে অসাধু উপায়ে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।
রবিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়। শেষ খোবোড়ে, হরিদাসকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সিআইডি।
তবে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাবি, হরিদাসকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁদের মতে, রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগই তাঁর গ্রেপ্তারের আসল কারণ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে প্রশাসনের দাবি অর্থ তছরুপের মামলা, অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ধর্মীয় প্রতীক নির্মাণের উদ্যোগের জন্যই হরিদাসকে নিশানা করা হয়েছে।
- পরিকল্পনা ছিল ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের। কিন্তু শুরু থেকেই মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি বিরোধিতা করে। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের মামলা হয়।

