‘ক্ষমা করে দিও মা, পরের জন্মে তোমার গর্ভেই জন্ম নেব’

ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্য পূরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ১৮ বছর বয়সি সুশীল ধাগে। কিন্তু নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ। পুনঃপরীক্ষায় আশানুরূপ ফল হবে না বলে আশঙ্কা থেকেই আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ।

মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার ১৮ বছর বয়সী নীট পরীক্ষার্থী সুশীল ধাগের মৃত্যুতে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু নীট-ইউজি পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস, পুনঃপরীক্ষার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নীট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষা বাতিল হয়। পরে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, দ্বিতীয়বারের পরীক্ষাটি সুশীলের প্রত্যাশামতো হয়নি। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মৃত্যুর আগে মায়ের উদ্দেশে পাঠানো ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “মা, আমাকে ক্ষমা করে দিও। পরের জন্মে আবার তোমার গর্ভেই জন্ম নেব। তোমাকে কষ্ট দেব না।”

ভিডিও পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির কাছাকাছি একটি গভীর কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুশীল। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোনে পাওয়া ভিডিও বার্তাটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষার চাপ এবং পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন। মনোবিদদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলকে জীবনের একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে ব্যর্থতার আশঙ্কা থেকেই অনেক পড়ুয়া চরম মানসিক চাপে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উচিত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

About The Author