নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী হয়ে জ্বালানী তেল আনা বন্ধ। এমন অবস্থায় দেশের কথা চিন্তা করে, দাম না বাড়িয়েও রাশিয়ার থেকে সাহায্য নিতে পারে ভারত। রাশিয়াও ভারতকে তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তবে ভারত রাশিয়ার তেল কিনতে গেলে মার্কিন অনুমতির প্রসঙ্গ উঠছে। ইতিমধ্যেই ৩০ দিনের জন্য ছাড়পত্র মিলেছে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি আসলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “ভারতকে মার্কিন অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ও বীমা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে মার্কিন ছাড়পত্র কার্যত অপরিহার্য হয়ে উঠছে।”
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে ভারত যখন রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কিনছে, তখন আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ও বীমা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে মার্কিন ছাড়পত্র বা অনুমতির প্রসঙ্গ সামনে আসছে। এ কারণেই সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে, রাশিয়ার তেল কিনতে ভারতের ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমতি কেন প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতকে সরাসরি মার্কিন অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বীমা কোম্পানি এবং পরিবহণ সংস্থাগুলি মার্কিন নীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে ভারতকে কার্যত মার্কিন ছাড়পত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, “ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার তেল কিনছে। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অনুমতির বিষয়টি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল।”
ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি স্পষ্ট, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য রাশিয়ার তেল কেনা অপরিহার্য। ভারত বারবার জানিয়েছে, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ভারত যেন রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমায় এবং পশ্চিমা বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই অনুমতির প্রসঙ্গ আসলে ভূরাজনৈতিক চাপের প্রতিফলন।

