ভারত থেকে ফেরার পথে মার্কিন হানায় ধ্বংস ইরানি যুদ্ধ জাহাজ, শতাধিক মৃত্যুর শঙ্কা

নয়াদিল্লি: সপ্তাহ আগেই ভারতে সামরিক মহড়ায় সামিল হয়েছিল ইরানের যুদ্ধ জাহাজটি। যুদ্ধ আবহে ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ধ্বংস হল ইরানি যুদ্ধ জাহাজ আইরিস দেনা।

ঘটনার পর ভিডিও প্রকাশ করেছে আমেরিকার সেনা। প্রতিরক্ষা দপ্তরের তরফে একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই সমুদ্রে বড় হামলা আমেরিকার।

NDTV-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন নাবিক ছিলেন, এর মধ্যে অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছে বলে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানিয়েছে। আরও শতাধিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৩২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

আইরিস দিনা ছিল ইরানের মৌজ-ক্লাস ফ্রিগেট, যা সম্প্রতি ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক নৌ মহড়া মিলান ২০২৬-এ অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছিল। এর আগে ২০২৪ সালেও একই মহড়ায় অংশ নিতে ভারত এসেছিল জাহাজটি। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই প্রথমবার কোনো শত্রু যুদ্ধজাহাজকে টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হলো। তিনি একে “আমেরিকার বৈশ্বিক ক্ষমতার প্রমাণ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর হামলার সাদা-কালো ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যা সাবমেরিনের পেরিস্কোপ থেকে ধারণ করা বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি জাহাজটি সম্ভবত মার্কিন সাবমেরিনের উপস্থিতি টেরই পায়নি, যা মার্কিন নৌবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ইরানের নৌবাহিনীকে দুর্বল করার লক্ষ্য স্পষ্ট করা হয়েছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও চাপ বাড়াতে পারে।

About The Author