‘বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, আর এখানে…!’, ‘তুঘলকী কমিশনে’র ‘কীর্তিকলাপে’ ক্ষুব্ধ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবেশী দেশে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, অথচ ভারতে, বিশেষত বাংলায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। নাম না করে কমিশনের এক কর্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, “কে কোথায় বসে কী পরিকল্পনা করছেন, সব খবর আমাদের কাছে আছে।” তাঁর ইঙ্গিত, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনকে তুঘলকী কমিশন বলে খোঁচা।

মমতা বলেন, “জেনুইন ভোটারদের নাম তালিকায় তুলুন। স্বচ্ছ নির্বাচন করুন। সব রকম সহযোগিতা করব।” একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনও পদ চিরস্থায়ী নয়। অতীতে প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তারপর কী হয়েছে, সবাই জানেন।”

এনআইএ-র ভূমিকাও তাঁর সমালোচনার নিশানায় ছিল। রাজ্যে কোনও বিস্ফোরণ বা অশান্তি ঘটলেই কেন্দ্রীয় সংস্থা সক্রিয় হয়, অথচ অন্য রাজ্যের ঘটনায় নীরব থাকে—এমন অভিযোগও করেন তিনি। পাশাপাশি ভোটের আগে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আর্থিক অনুদান বা প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকেও কটাক্ষ করেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের উদাহরণ টেনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা করেন মমতা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বাংলায় ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না।

About The Author