রাজগঞ্জ: একজনের ডিউটি; অন্যদিকে দুই বন্ধুর পিকনিক! পথে কলেজের সামনে ছেড়ে দেওয়ার জন্য রাইড চাইল দুই বন্ধু। চটজলদি পৌঁছতে গিয়েই সব শেষ! রাস্তার ওপর ‘ফেঁসে থাকা’ কন্টেনারের সঙ্গে বাইকের ধাক্কায় মৃত্যু হল সেন্ট জেভিয়ারস কলেজের দুই ছাত্রসহ তিনজনেরই। ঘন কুয়াশা এবং দ্রুত গতির কারণে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা বলে অনুমান।
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জে শনিবার সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই প্রাণ গেল তিন যুবকের। তাঁরা একই এলাকার বাসিন্দা। মৃতের মধ্যে শুভাশিস ওঁরাও এবং দিপঙ্কর মজুমদার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অন্যজন স্থানীয় বাসিন্দা কর্ণ মণ্ডল। তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজে যাচ্ছিলেন। পথে ওই দুই বন্ধু তাঁর বাইকে করে কলেজে এগিয়ে দিতে বলে। সকালে প্রত্যেকেরই তাড়া ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমবাড়ির দিক থেকে একটি বাইকে তিন যুবক হাতিমোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘন কুয়াশার মধ্যে তাঁরা দ্রুত গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন। এদিকে, সেই সময় রাস্তার ওপর একটি বড় কন্টেনার গাড়ি ঘোরাতে গিয়ে ফেঁসে ছিল। সকালে উদ্ধার কাজও চলছিল। কিন্তু কুয়াশার কারণে বাইক আরোহীরা খেয়াল করে উঠতে পারেননি। মুহূর্তেই সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই যুবকের, মগরাডাঙ্গির ডাঙ্গাপাড়ার কর্ণ মণ্ডল এবং আমবাড়ির শুভাশিস ওঁরাও। গুরুতর আহত হন দীপঙ্কর মজুমদার, যিনি পরে হাসপাতালে মারা যান। তিনজনই রাজগঞ্জের বাসিন্দা। শুভাশিস ও দীপঙ্কর ছিলেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ছাত্র—একজন পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং অন্যজন ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। কলেজের তরফে জানা গেল, শনিবার তাঁদের কলেজ বন্ধ ছিল। দুই বন্ধু কেন আসছিল জানা নেই। তবে শোনা গিয়েছে, বন্ধুরা মিলে পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন, সেখানে যেতে গিয়েই দুঃখজনক ঘটনা।
খবর পেয়ে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ও আহতদের উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজগঞ্জের মনুয়াগঞ্জ এলাকায়।

