অভাবকে জয় করে WBCS অফিসার দৈব্যনাথ রায়, ময়নাগুড়ির গর্ব

জলপাইগুড়ি: বাড়িতে অভাবের ছাপ স্পষ্ট! পাঁচ বছর ধরে টানা প্রচেষ্টা। ছেলে বেকার বসে আছে, কাজ করলেও তো হয়। সব কথা কানে না তুলে কঠিন পরিশ্রম। আর তাতেই মিলল সাফল্য। অভাবকে সঙ্গী করেই ছেলে এখন WBCS অফিসার। বাবা হোটেল কর্মী, ছেলের সাফল্যে গর্বিত পরিবার।

অভাবকে সঙ্গী করেই পাঁচ বছরের টানা প্রচেষ্টায় অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখলেন ময়নাগুড়ির দৈব্যনাথ রায়। সাধারণ পরিবারের এই ছেলের অধ্যবসায় তাঁকে এনে দিল WBCS অফিসারের পদ।

দক্ষিণ খাগড়াবাড়ি হঠাৎ কলোনির বাসিন্দা দৈব্যনাথের বাবা সুভাষ রায় হোটেলের কর্মচারী, মা গৃহবধূ। সংসারের সমস্ত খরচ বাবার সামান্য উপার্জনেই চলত। পড়াশোনার পাশাপাশি অভাবের চাপও ছিল স্পষ্ট। তবুও হাল ছাড়েননি দৈব্যনাথ।

২০১৮ সালে শহীদগড় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ময়নাগুড়ি কলেজে ভূগোল অনার্সে ভর্তি হন তিনি। পরে নর্থবেঙ্গল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষায় বসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর আগস্টে মেইনস পরীক্ষাতেও সফল হন। এরপর ডাক পান ইন্টারভিউয়ের জন্য।

অবশেষে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি ৩৯ নম্বর র‍্যাঙ্ক করে নজর কাড়েন। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা গর্বিত। দৈব্যনাথের গল্প প্রমাণ করছে—অভাব কোনও বাধা নয়, অধ্যবসায় ও মেধাই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। তাঁর সাফল্য গোটা এলাকার গর্ব হয়ে উঠেছে।

About The Author