ঝাড়গ্রাম: সশরীরে ফেরার কথা ছিল। ফিরলেম ওই তারিখেই, কিন্তু কফিনে বন্দী হয়ে। সমীরণ সিংয়ের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল কুচলাদাড়ি গ্রাম।
কুচলাদাড়ি গ্রামে শনিবার ভোরে পৌঁছল শহিদ সেনা জওয়ান সমীরণ সিংয়ের কফিনবন্দি দেহ। ১৬৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের ব্রাভো কোম্পানির সতীর্থদের কাঁধে ভর করে জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিন যখন বাড়ির উঠোনে নামানো হয়, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২৪ জানুয়ারি ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল সমীরণের। সেই দিনেই বাড়ির দোতলার ছাদ ঢালাই হওয়ার কথা ছিল তাঁর উপস্থিতিতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন তিনি। বাবা-মাকে সুখে রাখার জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করছিলেন।
গ্রামের স্কুল মাঠে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। কেউ ফুল হাতে, কেউ চোখে জল, কেউ আবার স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মা কফিনে হাত রেখে বারবার বলছিলেন, “তুই তো বলেছিলি আবার ফিরবি…”
পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় সমীরণের দেহ। সেনাবাহিনীর জওয়ানরা গান স্যালুট দিয়ে শেষশ্রদ্ধা জানান। গোটা এলাকা ধ্বনিত হচ্ছিল, “সমীরণ সিং অমর রহে।” উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলায় সেনার গাড়ি খাদে পড়ে দুর্ঘটনায় ১০ জওয়ান নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া অঞ্চলের বাসিন্দা সমীরণ সিং।

