‘সুদখোর ইউনূস, খুনি ফ্যাসিস্ট!’ দিল্লির সভায় বক্তৃতা শেখ হাসিনার

নয়াদিল্লি: নির্বাসনে থাকার পর প্রথমবার জনসভায় অডিও মাধ্যমে বক্তব্য রাখলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সভায় তাঁর বার্তা সম্প্রচারিত হয়। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে তীব্র আক্রমণ করেন।

হাসিনা বলেন, “ইউনূস একজন হত্যাকারী ফ্যাসিস্ট, অর্থলোভী ও দেশদ্রোহী।” তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি অবৈধ ও সহিংস শাসন চলছে, যা গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে এবং সেই দিন থেকেই দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে।

নিজের বার্তায় হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকার তুলে ধরেন। তিনি পাঁচ দফা দাবি জানান, অবৈধ প্রশাসন অপসারণ, মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন, সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাজনৈতিক মামলার অবসান এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত।

দিল্লির সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতারা। হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট এখন দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধান রক্ষার লড়াই। তিনি তাঁর সমর্থকদের আহ্বান জানান, “বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত পুতুল সরকারকে উৎখাত করতে হবে।” যদিও তিনি নিজে উপস্থিত হননি, তাঁর অডিও বার্তা ভরা সভায় সম্প্রচারিত হয়। ভাষণে হাসিনা ইউনূসকে বারবার “হত্যাকারী ফ্যাসিস্ট,” “সুদখোর,” “মানি লন্ডারার” এবং “ক্ষমতালোভী দেশদ্রোহী” বলে আখ্যা দেন।

About The Author