কলকাতা: ইডি অভিযানের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল ও রাজ্য সরকার বড় ধাক্কা খেল। বুধবার শীর্ষ আদালত জানায়, পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তও স্থগিত থাকবে।
ইডির পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুলিশবাহিনী নিয়ে অভিযানের জায়গায় ঢুকে পড়েন এবং তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে ফেলা হয়, যা চুরির সমতুল্য। তাঁদের বক্তব্য, পিএমএলএ আইন মেনে আন্তঃরাজ্য আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে অভিযান চালানো হচ্ছিল। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ একযোগে কাজ করে বৈধ তদন্তে বাধা দিয়েছে। ইডির দাবি, এই ঘটনায় চুরি ও ষড়যন্ত্রের মতো অপরাধ হয়েছে, তাই সিবিআই তদন্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের সওয়াল, ইডির হানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কয়লা দুর্নীতির মামলায় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ বয়ান রেকর্ড হয়েছিল, এতদিন পরে ভোটের আগে হানা কেন? তাঁদের বক্তব্য, আইপ্যাক দফতরে দলের সংবেদনশীল তথ্য ছিল, যা রক্ষা করা মমতার দায়িত্ব। ইডির পঞ্চনামায় তল্লাশি শান্তিপূর্ণ বলা হলেও পরে বাধা ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পরস্পরবিরোধী।
সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে, দেশে আইনের শাসন বজায় রাখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। আদালতের প্রশ্ন, কোনও সংস্থা যদি সৎ উদ্দেশ্যে গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কাজের অজুহাতে তাদের ক্ষমতা খর্ব করা যায় কি না। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ইডি অভিযানের এলাকায় সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করা হয়েছে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে।

