সুভাষচন্দ্র বসু, বেলাকোবা: হাতি, চিতাবাঘের পর এবার বুনো শুয়োরের হানা রাজগঞ্জে। বৃহস্পতিবার শিকারপুর অঞ্চলের ফুলাতিপাড়ায় ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা।
চা-বাগানে কাজ করতে গিয়ে বন্য শুয়োরের আক্রমণে প্রাণ হারালেন আতিয়া উড়াও (৪২)। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মদন মাঝি ও বাবলু ওরাও। মদন মাঝিকে ভর্তি করা হয়েছে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। এদিকে বাবলু ওরাওয়ের শরীরে চারটি সেলাই পড়েছে, তিনি বর্তমানে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো তিনজন চা-বাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন। হঠাৎই বন্য শুয়োরের আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আতিয়া উড়াওয়ের মৃত্যু হয়, আর দুইজন আহত হন। এই অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে শিকারপুর অঞ্চলের যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রমণীকান্ত রায় ছুটে যান মৃতের বাড়িতে। তিনি শোকাহত পরিবারের পাশে বসে তাঁদের সান্ত্বনা দেন এবং আশ্বাস দেন যে দল ও সংগঠন তাঁদের পাশে আছে। তাঁর কথায়, “এই অসহনীয় যন্ত্রণার সময়ে তাঁরা একা নন—আমরা আছি, আগামীতেও থাকব।” আতিয়া উড়াওয়ের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, সমগ্র এলাকার জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর বন দপ্তরের উচিত এলাকায় বন্যপ্রাণীর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া।
শুক্রবার সকালে বিধায়ক খগেশ্বর রায় নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সমবেদনা জানান। এদিকে রেঞ্জার জানান, ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি মৃত পরিবারের একজন চাকরি পাবেন।

