রাজগঞ্জ: ফাটাপুকুরে আন্ডারপাস তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ১৩ তারিখের মধ্যে জাতীয় সড়কের পাশে দোকান ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।
যদিও এলাকাবাসীরা এতদিন জেনে এসেছিলেন এখানে ফ্লাইওভার হবে। অথচ তার বদলে হচ্ছে আন্ডারপাস। আন্ডারপাসটি কিভাবে তৈরি হবে? নতুন করে কোথায় বাসস্ট্যান্ড তৈরি হবে? সার্ভিস রোড কোন জায়গা দিয়ে যাবে ইত্যাদি বিষয়ে কেউ স্পষ্টভাবে কিছুই বলতে পারছেন না। আর তাই একরকম ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন এলাকাবাসীরা।
ফাটাপুকুরে ঘনঘন দুর্ঘটনার সমাধান হিসাবে ২০২২-এর ২২ নভেম্বর সাংসদ বলে গিয়েছিলেন এখানে ফ্লাইওভার তৈরি হবে। তবে এখন মাইকে ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে, এখানে আন্ডারপাস তৈরি করা হচ্ছে। এই সংবাদে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাংসদকে বারংবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তুলছেন না।
এদিকে ২০১৯ সালে রাস্তা সম্প্রসারণের সময় জমি দিয়েও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ শর্মা। এখন তার বাড়ির সামনে দিয়েই তৈরি হচ্ছে আন্ডারপাস। তিনিও জানান কিভাবে এই আন্ডারপাস তৈরি করা হচ্ছে সে নিয়ে তিনি নিজেও ধোঁয়াশায় রয়েছেন।
ফাটাপুকুরে জাতীয় সড়কের পাশে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্ডারপাস তৈরি করা হলে ফাটাপুকুর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। তাছাড়া নিচের জায়গা অবহেলিত হতে পারে। পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে জল জমার সমস্যাও হতে পারে। ইতিমধ্যেই স্কুলের সামনে নির্মিত আন্ডারপাসের জন্য স্কুলপাড়ার লোকজন ভুগছেন বলে অভিযোগ।
যদিও স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা দেবাশিস দে’র কথায় এই প্রকল্প তৈরি হলে এলাকাবাসীদের কোনো রকম সমস্যা হবে না। তাছাড়া ২০২৩ সালেই এখানে আন্ডারপাস তৈরির জন্য টেন্ডার পাস হয়ে গিয়েছিল। ফ্লাইওভার প্রসঙ্গে তিনি বলেন জাতীয় সড়কের ওপরে ফ্লাইওভার তৈরি করা যায় না।
যদিও আন্ডারপাস তৈরি হলে ঠিক কিভাবে রূপায়িত হবে, কোন দিকে বাসস্ট্যান্ড থাকবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কেউই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। এই কারণে এলাকাবাসীদের একাংশ আন্ডারপাস পরিকল্পনার ব্যাপারে স্বচ্ছভাবে জানতে চেয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানাবেন। যাতে NHAI কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর সঙ্গে একবার আলোচনায় বসে ছবিটা স্পষ্ট করে দেয়। ইতিমধ্যেই সেই মর্মে সই সংগৃহীত হয়েছে।

