জলপাইগুড়ি: দুই স্ত্রী! কারোর নাম নেই ২০০২-এর ভোটার লিস্টে! সেই নিয়েই গভীর উদ্বিগ্ন ছিলেন। অবশেষে ঘটালেন চরম কাণ্ড। পরিবারের দাবি, SIR আতঙ্কেই বৃদ্ধের এমন পদক্ষেপ! SIR আবহে এবার জলপাইগুড়িতে ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
শুক্রবার খড়িয়া পঞ্চায়েতের জগন্নাথ কলোনি এলাকায় বছর ষাটের ওই বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম নরেন্দ্রনাথ রায়। পেশায় তিনি ছিলেন ভ্যানচালক।
স্থানীয় সুত্রে খবর, বৃদ্ধের দুই স্ত্রী। তাঁদের কারোর নাম নেই ২০০২-এর ভোটার তালিকায়। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নিজের নাম থাকলেও দুই স্ত্রী— মিনতি ও বিনোদিনীর নাম নেই। সেই নিয়েই নাকি তিনি প্রবল চাপে ছিলেন।
সম্প্রতি এসআইআর ফর্ম সংক্রান্ত প্রচার ও যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন নরেন্দ্রনাথ। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও স্ত্রীদের নাম না থাকায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আশঙ্কা করছিলেন, তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, এসআইআর সংক্রান্ত প্রচার ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতা না থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর তা আরও জোরালো হল।

